আমার পাপের প্রায়শ্চিত্ত করেছি, তোমরা আমার সন্তানকে খেয়াল রেখো’

সিলেট নগরীর পাঠানটুলা এলাকা থেকে এক দম্পতির ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার (৬ নভেম্বর) সকাল ১১ টায় নগরীর পাঠাটুলার পল্লবী আ/ এ সি ২৫ নম্বর থেকে এ লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহতদের নাম রিপন দাস ৩০, শিপা তালুকদার। দুজনেই গামছা দিয়ে ফ্যানের মধ্যে ঝুলন্ত অবস্থায় ছিল। পাশেই তাদের দেড় বছরের মেয়ে শিশু কান্না করছিল।

স্থানীয়রা জানান, ঘরের ভেতর থেকে ছোট্ট মেয়ের কান্নার শব্দ শুনে ডাকাডাকি করেন বাসার মানুষরা। অনেক ডাকাডাকি করার পরেও ভেতর থেকে দরজা খুলছিল না। পরে পুলিশকে খবর দিলে তারা এসে লাশ উদ্ধার করেতাদের আত্মীয় স্বজনদের সাথে কথা বলে জানা যায়, রাতে স্বামী-স্ত্রী’র মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়।

সকাল ৯ দিকে ঘরের ভেতর থেকে মেয়ের কান্না শুনতে পাওয়া যায়। অনেক ডাকাডাকি করার পরও ভেতর থেকে কোন সাড়া শব্দ না পাওয়ায় প্রতিবেশিরা ঘরের টিন কেটে মেয়ে শিশুকে উদ্ধার করে। এসময় শিশুটি তার মায়ের পা ধরে কান্না করছিল।

ঘটনার খবর পেয়ে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি উত্তর) আজবাহার আলী শেখ, এডিসি গৌতম দেব, জালালাবাদ থানার এসি মিজান, জালালাবাদ থানার ওসি নাজমুল হুদা খান, ওসি (তদন্ত) খালেদ মামুনসহ পুলিশ সদস্যরা তৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন।

পুলিশের একটি সূত্র জানায়, উদ্ধারকৃত চিরকুটের মধ্যে লিখা আছে, ‘আমার পাপের প্রায়শ্চিত্ত করেছি, তোমরা আমার সন্তানকে খেয়াল রেখো।’ কিন্তু এই চিরকুটটি রিপন নাকি শিপা কে লিখেছেন, তা নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ। আর কোনো ‘পাপের’ কথা এখানে লিখা হয়েছে, তা নিয়ে ধোঁয়াশায় আছে তারা।এ ব্যাপারে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) গৌতম দেব ও জালালাবাদ থানার ওসি নাজমুল হুদা খান বলেন, আমরা ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে লাশ উদ্ধার করেছি। কি কারণে তাদের মৃত্যু হয়েছে তা আমরা ক্ষতিয়ে দেখছি।

Leave a Comment