জাতিসংঘে যাওয়া ছাড়া জায়েদ খানের আর কোনো পথ নেই : ইলিয়াস কাঞ্চন

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনে প্রাথমিকভাবে জয়ী জায়েদ খানের প্রার্থিতা বৈধ বলে দেওয়া হাইকোর্টের রায় আজ স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগ। সেইসঙ্গে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে নিপুণের লিভ টু আপিল গ্রহণ করেছেন আদালত।

আপিল বিভাগের এই আদেশের ফলে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নিপুণ দায়িত্ব চালিয়ে যেতে পারবেন বলে জানিয়েছেন তার অন্যতম আইনজীবী মুস্তাফিজুর রহমান খান।

এই খবরের পর বিকাল ৩টায় এফিডিসিতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে উপস্থিত হন সমিতির সভাপতি ইলিয়াস কাঞ্চন, সহ-সাধারণ সম্পাদক সাইমন সাদিক, ক্রীড়া ও সংস্কৃতি সম্পাদক মামনুন ইমনসহ অনেকেই।

সংবাদ সম্মেলনে জায়েদ খানের আবার পালটা রিট বা মামলায় এই পদে ফিরে আসার সম্ভাবনা আছে কি না জানতে চাইলে ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, ‘এখন আর কোনো সুযোগ নেই। দেশের সর্বোচ্চ আদালত থেকে একটি নির্দেশনা এসেছে। এখন জায়েদকে এই পদে আসতে হলে জাতিসংঘে যেতে হবে। এ ছাড়া তার জন্য আর কোনো উপায় নেই।’

তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ ৯ মাস ধরে অনেক কিছু হয়েছে। এসব নিয়ে আর কথা চাই না। আমরা সবাই শিল্পী হয়ে সমিতির জন্য, শিল্পীদের জন্য কাজ করে যেতে চাই। নিপুণ এখন থেকে নিয়মিত এই পদে কাজ করবে। আজ থেকে আমাদের শক্তিটা বেড়েছে।’

এদিকে আজকের এ রায় চূড়ান্ত নয় বলে দাবি করেছেন জায়েদ খান। নিপুণের পক্ষে এই রায়ের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ‘নিপুণের রায়ের বিষয়টি যেভাবে ছড়ানো হচ্ছে তাতে ভুল আছে। আদালত কেবল নিপুণের লিভ টু আপিল গ্রহণ করেছেন। এটা কিন্তু চূড়ান্ত রায় না।’

জায়েদ খান বলেন, ‘এখন পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানি হবে। আমি শুনানির প্রস্তুতি নিচ্ছি। আমি বিশ্বাস করি শুনানিতে রায় আমার পক্ষে আসবে। চূড়ান্ত বিজয় আমারই হবে। কারণ, আমি ভোটে নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক।’

চলতি বছরের শুরুতে শিল্পী সমিতির ২০২২-১৪ মেয়াদের নির্বাচনে সভাপতি পদে মিশা সওদাগরকে হারিয়ে জয়ী হন অভিনেতা ইলিয়াস কাঞ্চন। সাধারণ সম্পাদক পদে জায়েদ খান ও নিপুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। নির্বাচন শেষে প্রাথমিকভাবে জায়েদকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। জায়েদকে বিজয়ী ঘোষণা করা হলেও ফল মেনে নেননি নিপুণ। তিনি কারচুপির অভিযোগ তোলেন প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। এ নিয়ে পরস্পরের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে নামেন জায়েদ ও নিপুণ।

Leave a Comment