স্বস্তির বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতায় অস্বস্তি

প্রতিদিনই বাড়ছে উষ্ণায়ন। বাড়ছে গরমের তীব্রতা। সকালের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে প্রখরতা দেখাচ্ছে সূর্যের তেজ। এতে নগরজীবনে অস্বস্তি সবচেয়ে বেশি। বিশেষত রাজধানী ঢাকার মতো জনবহুল নগরীতে তীব্র গরমে নাভিশ্বাস ওঠে মানুষের। ইট-পাথরের উঁচু উঁচু ভবনে মোড়ানো এই শহরে তাই এক পশলা বৃষ্টি যেন খানিক শান্তি আর স্বস্তিরই বারতা। এতে বিড়ম্বনাও কম নেই। আর সেটা মূলত জলাবদ্ধতা নিয়ে।

সোমবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরের দিকে ঢাকার আকাশ ছিল মেঘাচ্ছন্ন। ছিল না রোদের প্রখরতা। দুপুর ২টার পর শুরু হয় বৃষ্টি। ক্রমে তা ভারি হতে থাকে। তাতে শুষ্ক-রুক্ষ শহরটা যেন নিমেষে প্রাণ ফিরে পায়। ধুলোজীর্ণ সবুজ পাতারা ফিরে স্বরূপে।

কিন্তু পরক্ষণেই চোখে পড়ে ভোগান্তির চিত্র। মাত্র আধা ঘণ্টার বৃষ্টিতেই রাজধানীর বেশ কিছু এলাকায় সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। বিশেষ করে ব্যস্ততম এলাকা ফার্মগেট ছাড়াও গ্রিন রোড, পান্থপথ, শুক্রবাদ, রাজার বাজা, কাকরাইল, মালিবাগ এলাকার অলিগলিতে পানি জমতে দেখা যায়। কোথাওবা ছিল হাঁটু পানি। এতে অফিস-কর্মস্থল থেকে বিকেলে ঘরমুখো মানুষদের পোহাতে হয় চরম ভোগান্তি।

মুষলধারে নামা বৃষ্টির ছবি ও ভিডিও অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেন। ক্যাপশনে জানান স্বস্তির কথা। অনেকে আবার বৃষ্টিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা নিয়েও সরব হন সোশ্যাল মিডিয়ায়। ছবি ও ভিডিও পোস্ট করে নগর ব্যবস্থাপনা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

সরেজমিনে গ্রিনরোড এলাকায় দেখা যায়, পান্থপথ থেকে গ্রিনরোড পর্যন্ত রাস্তা পুরোটাই বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে। রিকশাচালকরা রিকশা থেকে নেমে ঠেলে নিচ্ছেন। সারি সারি মোটরসাইকেল অর্ধেক পানিতে তলিয়ে আছে। অনেককে পিকআপভ্যানও ঠেলতে দেখা গেছে।

গ্রিনরোড এলাকার বাসিন্দা হাসান সিকদার জাগো নিউজকে বলেন, পান্থপথ থেকে আশপাশের বেশ কয়েকটি রাস্তায় গেলে শুধু পানির দেখা মিলবে। ফার্মগেটের দিকে, শুক্রাবাদ ও রাজাবাজার এলাকার অলিগলিতেও জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। মেইন রোডেই তো হাঁটুপানি। অলিগলিগুলোর অবস্থা তো আরও খারাপ।

ওই এলাকায় অফিস করতে আসা আব্দুস সালাম নামের একজন বলেন, দুপুরে খেতে বের হওয়ার সময় বৃষ্টি নামে। অফিসের জানালা দিয়ে বৃষ্টি দেখলাম। নিচে নেমে দেখি রাস্তাঘাট নদী হয়ে গেছে। পাঠাও নেই, রিকশা ভাড়াও বেশি। এই শহরে বৃষ্টি হলেও যন্ত্রণা, না হলেও যন্ত্রণা।

Leave a Comment